২৬ মার্চ থেকে ৫ এমবিপিএস’র দামে ১০ এমবিপিএস ইন্টারনেট

সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম অনুসারে বর্তমানে ৫ এমবিপিএস (মেগাবিটস পার সেকেন্ড) ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল্য ৫০০ টাকা।  আগামী বছরের ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশের গ্রাহকরা ৫০০ টাকায় ১০ এমবিপিএস ইন্টারনেট সেবা পাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি।

বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সরকার এর আগে ৩টি স্ল্যাবে  (৫ এমবিপিএস ৫০০, ১০ এমবিপিএস ৮০০  এবং ২০ এমবিপিএস ১২০০ টাকা) ইন্টারনেটের দাম বেঁধে দেয়।  কিন্তু সারাদেশে এই দাম বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) ও এনটিটিএন (ভূগর্ভস্থ ক্যাবল সেবা), সেবার মূল্যসীমা নির্ধারিত না থাকায়।  টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) এই দুটির দাম ও সেবামূল্য বেঁধে দেওয়ায় আইএসপিএবি এই ঘোষণা দেয়।

ব্রডব্যান্ড নীতিমালা অনুযায়ী, ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞা, সর্বনিম্ন ১০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেটই হলো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট।  গতি এর নিচে হলে তাকে বলা হয় ন্যারোব্যান্ড ইন্টারনেট। বর্তমানে  ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহককে  দিয়ে থাকে ন্যারোব্যান্ড ইন্টারনেট।

অপরদিকে সরকার ৩টি স্ল্যাবে ক্যাটাগরি করে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫, ১০ ও ২০ এমবিপিএস।  ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস স্ল্যাব ঘোষণার পর চারদিক থেকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।  নেটিজেনরা বলতে থাকে, ন্যারোব্যান্ডকে ব্রডব্যান্ড বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, ‘‘সরকারের ‘এক দেশ এক রেট’ ঘোষণার পরে অনেকেই এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে।  যারা পারেনি সেক্ষেত্রে কিছু কারিগরি জটিলতা ছিল।  ঢাকার বাইরে এনটিটিএন খরচ (ব্যান্ডউইথ ট্রান্সমিশন) বেশি হওয়ায় এবং ব্যান্ডউইথের দাম বেশি পড়ায় অনেকের পক্ষেই সরকারি নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছিল না।  দাম বেঁধে দেওয়ার ফলে এটি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।’  তিনি জানান, আইএসপির সেবার দাম বেঁধে দেওয়ার সময় বিটিআরসির চাওয়া ছিল— ১০ এমবিপিএসের মূল্য হবে ৫০০ টাকা। এ ব্যাপারে আইএসপিএবি’রও প্রতিশ্রুতি ছিল।  ফলে এটা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  তিনি আরও  জানান, আগামী জানুয়ারি মাসে এ খাতে একটা বড় পরিবর্তন আসবে।

জানা গেছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় আইআইজিগুলোকে ‘পপ’ (পয়েন্ট অব প্রেজেন্স) নির্মাণের কাজ শেষ করতে হবে।  যদিও আইআইজি ফোরামের মহাসচিব আহমেদ জুনায়েদ বলেছেন— ৩১ নয়, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা পপ স্থাপনের কাজ শেষ করবো।  তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।  বিশ্বে এখন চিপ সংকট চলছে।  সময় মতো এগুলো পাওয়া না গেলে কাজ বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও আমরা চেষ্টা করবো— সময় মতো কাজ শেষ করতে।

অপরদিকে আগামী জানুয়ারি মাস থেকে আইএসপিগুলো ব্যান্ডউইথ কিনবে আইআইজিগুলো থেকে। আইএসপিগুলোর ব্যান্ডউইথ ক্রয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।  এই খাতে শৃঙ্খলা ফিরলে আগামী ২৬ মার্চ থেকে বর্তমানের ৫ এমবিপিএস’র দামে ১০ এমবিপিএস ইন্টারনেট পাবেন গ্রাহকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *