প্রান্তিকওয়ারিতে বিক্রি কমেছে অপো-অ্যাপেলের, বেড়েছে স্যামসাং-শাওমির

করোনা মহামারী ঠেকাতে চলমান বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের বাজারেও। চলতি চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রান্তিকওয়ারিতে স্মার্টফোন বিক্রি কমেছে অপো-অ্যাপেলের, বেড়েছে স্যামসাং-শাওমির।

হংকং ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্টের মার্কেট মনিটর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩৩ কোটি। যেখানে প্রান্তিকওয়ারি স্মার্টফোন বিক্রি ৭ শতাংশ কমলেও বছরওয়ারি বেড়েছে ১৯ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের পাইকারি চালান থেকে আয় হয়েছে ৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, যা বছরওয়ারি ২৫ শতাংশ বাড়লেও প্রান্তিকওয়ারি কমেছে ১৬ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয়ের দিক থেকে অ্যাপলের শেয়ার ছিল রেকর্ড ৪১ শতাংশ। তার পরই রয়েছে স্যামসাং, অপো, শাওমি ও ভিভো।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রির দিক থেকে শীর্ষ পাঁচে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে স্যামসাং, শাওমি, অ্যাপল অপো ও ভিভো। তালিকায় শেষে থাকা চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ভিভোর প্রান্তিকওয়ারিতে ৮ শতাংশ বিক্রি কমলেও বছরওয়ারীতে ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে । দ্বিতীয়প্রান্তিকে বিক্রি হয়েছে ৩ কোটি ২৫ লাখ ইউনিট। এস৯, ওয়াই৫২এস এবং ওয়াই৩১ মডেলের ওপর ভর করে চীনা মার্কেটসহ বিশ্বব্যাপী নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান করে নিয়েছে।

No description available. 

অন্যদিকে আরেক চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড অপো শীর্ষ পাঁচে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখলেও প্রান্তিকওয়ারিতে ১২ শতাংশ স্মার্টফোন বিক্রি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩৬ লাখ। প্রথম প্রান্তিকে ১১ শতাংশ বাজার শেয়ার থাকলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে বৈশ্বিক সম্প্রসারণ এবং চীনে স্থির কর্মক্ষমতার কারণে গত বছরের একই সময়ে ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিলো এবং তখন ৯ শতাংশ শেয়ার ছিলো। অপোর বছরওয়ারি আয়ের দিক থেকে প্রান্তিকওয়ারিতে ১০ শতাংশ কমলেও বছরওয়ারিতে প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি আয় করেছে চীনা এই স্মার্টফোন ব্র্যান্ড।

এদিকে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও অ্যাপল রেকর্ড পণ্য বিক্রি করেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী আইফোন ১২ বিক্রির মাধ্যমে বেশ ভালো আয় করেছে অ্যাপল। প্রান্তিকওয়ারীতে অ্যাপলের স্মার্টফোন চালানের ১৮ শতাংশ কমেছে, কিন্তু বছরওয়ারি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪কোটি ৮৯ লাখ। বিক্রি কমার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, চাহিদা বেশি থাকলেও চিপের অভাবের কারণে আইফোন ১২ সিরিজের সরবরাহ তেমন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় বছরওয়ারিতে অ্যাপলের আয় বেড়েছে ৫২ শতাংশ।

 

আরও পড়ুন:

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শাওমির স্মার্টফোন বিক্রিতে বৈশ্বিক আয়ে শেয়ার ৯ শতাংশ। রেডমি নোট ও এমআই ১১ সিরিজের ওপর ভর করে রেকর্ড আয় করল শাওমি। শাওমির রেকর্ড বিক্রি নিয়ে কাউন্টারপয়েন্টের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হারমিত সিং ওয়ালিয়া বলেন, প্রিমিয়াম ও সাশ্রয়ী ব্র্যান্ডের সংযোগে প্রথমবারের মতো পাঁচ কোটিরও বেশি স্মার্টফোন বিক্রি করল চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা জায়ান্টটি। ভারতের মতো বৃহৎ বাজারে করোনার প্রভাব সত্ত্বেও শাওমির বিক্রি চাঙ্গায় ভূমিকা রেখেছে ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য আমেরিকা ও লাতিন আমেরিকার মতো বাজার। স্যামসাং ও হুয়াওয়ের শূন্যস্থান ভালোভাবেই কবজা করতে সক্ষম হয়েছে শাওমি।

প্রথম প্রান্তিকের মত দ্বিতীয় প্রান্তিকেও স্মার্টফোন বিক্রিতে সংখ্যায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং। তাদের স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে ৫ কোটি ৭৯ লাখ ইউনিট। বিক্রিতে বছরওয়ারি ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও প্রথম প্রান্তিকের বিপরীতে কমেছে ২৪ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রির দিক থেকে স্যামসাং শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও তাদের বাজার শেয়ার ৩ শতাংশ কমে ১৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ভারত, মধ্য আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো বাজারগুলোতে চালান কমায় স্যামসাংয়ের বাজার শেয়ারে এ প্রভাব পড়েছে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

AllEscort